‘ওনাকে হারিয়ে কত যে ক্ষতি হলো তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না’

ব্যাপক সংখ্যক মু’সল্লির অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে হেফাজতে ইস’লাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে জাতীয় ম’সজিদ বায়তুল মোকাররমে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ই’মামতি করেন ম’রহু’মের ছোট ছে’লে মুফতি জাবের কাসেমী। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম ও রাজনীতিবিদরা ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে কওমি মাদরাসার হাজার হাজার ভক্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ধ’র্মপ্রা’ণ মানুষ অংশ নেন।

পরে বেলা ১১ টার দিকে উত্তরার তুরাগ থা’না এলাকায় ধউর গ্রামে জামিয়া সোবহানীয়া মাদ্রাসায় আল্লামা কাসেমীকে দাফন করা হয়।

এদিকে জানাজা উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম এলাকায় সকালে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। মু’সল্লিদের সুবিধার্থে আশপাশের রাস্তায় অ’তিরিক্ত মাইক লাগানো হয়। জানাজায় অংশ নিতে ফজরের পর থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় মানুষের ঢল নামে। একপর্যায়ে মানুষের ভিড় বেশি হওয়ায় জানাজার আগে বায়তুল মোকাররমের আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়। এটি স্ম’রণকালের অন্যতম বৃহৎ জানাজা বলে অনেকে ধারণা করেন।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন আল্লামা কাসেমী প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা জামিয়া বারিধারার ভা’রপ্রাপ্ত মুহতামিম মা’ওলানা নাজমুল হাসান, নিজ দল জমিয়তে উলামায়ে ইস’লামের ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা জিয়াউদ্দিন, হেফাজতে ইস’লামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-বেফাক ও আল-হাইআতুল উলিয়া লিল জামিআতিল কওমিয়ার ভা’রপ্রাপ্ত সভাপতি আল্লামা মাহমুদুল হাসান ও পরিবারের পক্ষ থেকে আল্লামা কাসেমীর ছোট ভাই মা’ওলানা আবদুল কুদ্দুস। তারা স্মৃ’তিচারণ করে আল্লামা কাসেমীর কর্মবহুল জীবনের নানাদিক নিয়ে কথা বলেন।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী এ সময় বলেন, আমা’র সঙ্গে অনেক স’ম্পর্ক ছিল উনার। ওনাকে হারিয়ে কত যে ক্ষতি হলো তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। উনি অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। হু’মকি-ধামকির কাছে কখনও মা’থা নত করেননি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- দারুল উলুম দেওবন্দের শুরা সদস্য মা’ওলানা শফিকুল ইস’লাম, মা’ওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, সাবেক ধ’র্ম প্রতিমন্ত্রী মুফতি মুহাম্ম’দ ওয়াক্কাস, জামায়াতে ইস’লামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান প্রমুখ।

গত ১ ডিসেম্বর শ্বা’সক’ষ্ট হওয়ায় বর্ষীয়ান এ আলেমকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থা’নান্তর করা হয়।

রোববার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সেখানেই তার মৃ’ত্য হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মৃ’ত্যুকালে তিনি স্ত্রী'’, ২ ছে’লে ও ২ মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত ও ছাত্র রেখে গেছেন।

১৯৪৫ সালের ১০ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া নূর হোসাইন কাসেমী জমিয়তে উলামায়ে ইস’লাম বাংলাদেশের মহাসচিব, বেফাকের সহসভাপতি ও আল-হাইয়া বোর্ডেরও কো-চেয়ারম্যান ছিলেন।

হেফাজতে ইস’লাম প্রতিষ্ঠার পর থেকে তিনি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এ সংগঠনের নায়েবে আমির ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। গত ১৫ নভেম্বর গঠিত নতুন কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!