বিমে রড না দিয়েই নির্মাণ, ভাঙা হলো প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও রড় না দেয়াসহ নানান অনিয়মের অ'ভিযোগে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজে'লায় প্রশাসন ১১টি ঘর গুড়িয়ে দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে রড না দিয়ে নিম্নমানের কাজ চলছে অ'ভিযোগ পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজে'লার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে তৃতীয় পর্যায়ে নির্মিত ৫৯ টি ঘরের মধ্যে ১১ টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় উপজে'লা প্রশাসন। শুক্রবার রাত ৮ টা থেকে রাত ২ ঘটিকা পর্যন্ত এই ১১ টি ঘরের গ্রেড ভিম ভাঙ্গার কাজ করান নির্বাহী কর্মক'র্তা।

ঘটনার পর শনিবার সকালে (১৩ আগস্ট) ভেঙে ফেলা ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের জে'লা প্রশাসক মো জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি মিস্ত্রিদের নিজস্ব অর্থায়নে আগামী পাঁচ দিনের ভেতর সঠিকভাবে কাজগুলো শেষ করার নির্দেশনা দেন। এসময় স্থানীয়দের সাথে কথা জানাযায়,গৃহ নির্মাণের প্রত্যেকটি ধাপে ধাপে অনিয়ম করা হয়েছে। গ্রেড ভিমের ভিতরে ৪ টি রডের বদলে কোন ভিমে দেয়া হয়েছে একটি রড আর অধিকাংশ ভিমে কোন রড দেয়া হয়নি। অনেক ঘরে কোনো রডই নেই। ব্যবহার করা হয়েছে বাশঁ।ইটের উপর ইট বসিয়ে সিমেন্টের গাঁথুনি ছাড়াই লিন্টার তৈরি করা হচ্ছে। বালুর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে ভিট মাটি, পাথরের পরিবর্তে ব্যাবহৃত হচ্ছে ব্লকের অবশিষ্টাংশ। সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে শুধু নামমাত্র। প্লেটের পরিবর্তে কাঁদা মাটিতে বালু পাথর মিশ্রণ করার দৃশ্যও দেখাগেছে।

কাজ করার কথা উপজে'লা প্রশাসনের তদারকিতে। কিন্তু এই ৫৯ টি ঘরের কাজ সাবেক উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তা দেবাংশু কুমা'র সিংহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মক'র্তা আম্বিয়া আহম'দ দুইজনের সহযোগীতায় সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য তাজির কাজ করার অনুমতি পান। আর সেই কাজ প্রতিরাতে গ্রেট ভিম ও ডালাইয়ের কাজ করেছে তারা রাতের আঁধারে।

স্থানীয়রা আরও জানান,প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ঐ কাজের কাছা কাছি লোকজন যেতে ভ'য় পায়। সেই সুযোগে তাজির উদ্দিন, বাজারের কামা'রপট্রি এলাকার কমল দে ও নৈনগাঁও গ্রামের নুরুদ্দিন তিনজন মিলে তাদের ইচ্ছে মত কাজ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আজমপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নান জানান,কাজের শুরুতেই তাজির উদ্দিনকে দিয়ে ঘরের কাজ না করানোর জন্য প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাবেক উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তা দেবাংশু কুমা'র সিংহের নির্দেশে উপজে'লা সহকারী কমিশনার ভূমি ফয়সাল আহমেদ এর উপস্থিতিতে পু'লিশের হাতকড়া পরতে হয়েছে কিছু সময়ের জন্য। আম'রা যখন প্রতিবাদ করি তখন পিআইও আম্বীয়া আহমেদ উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তাকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করেন।

ভাঙ্গনের সময় নির্বাহী কর্মক'র্তা ফারজানা প্রিয়াংকার সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজে'লা সহকারী কমিশনার ভূমি ফয়সাল আহমেদ, উপজে'লা আওয়ামিলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হান্নান, দোয়ারাবাজার থা'নায় এস আই মিজানুর রহমান, এস আই নোমান আহম'দ, এস আই পিন্টু, ইউপি সদস্য ফরহাদ আলম, এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিনর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজে'লা নির্বাহী কর্মক'র্তা ফারজানা প্রিয়াংকা জানায়, উপজে'লার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের আজমপুর গ্রামে তৃতীয় পর্যায়ে নির্মিত ৫৯ টি ঘরের মধ্যে ১১ টি ঘর নির্মাণের অনিয়মের প্রমান পেয়ে ইতি মধ্যে ৭ টি ঘরের গ্রেড ভীম (নিচের লিন্টার ও ইট) ভেঙে ফেলা হয়েছে। বাকি যে ঘর তৈরি করা হয়েছে সব কয়টা ঘরের কাজ তদারকি করে দেখা হবে। যদি কোন ঘরের কাজে ত্রুটি থাকে তাহলে সেই গোলো ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হবে।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!