৬৯ বয়সী বাবাকে পি'টিয়ে ৩১ লাখ টাকা ছিনতাই, ক্ষমা চাইলেন ছে'লেরা

সম্পত্তির লো'ভ অমানুষে পরিণত করেছে ছে'লেদের। তাইতো জমি বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিতে ছিনতাইকারীর ভূমিকায় ছে'লেরা। শুধু নিজেরাই নয়, বাবাকে উচিত শিক্ষা দিতে ভাড়া করেন স'ন্ত্রাসী। পথরোধ করে বাবাকে জ'খম করে তিন ছে'লে ছিনিয়ে নিয়েছেন ৩১ লাখ টাকা। রাজধানীর মানিকদীতে বাবার করা মা'মলায় দুই ছে'লেসহ গ্রে'ফতার করা হয়েছে চারজনকে। উ'দ্ধার করা হয়েছে ২৯ লাখ টাকা।

৬৯ বছর বয়সী জয়নাল আবেদীন। জীবনের শেষ সম্বল জমি বিক্রির ৩১ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন বাড়িতে। পথে ছিনতাইকারীর হা'মলা। ছিনতাইকারীরা আর কেউ নয়, নিজের তিন ছে'লে। সঙ্গে কয়েকজন ভাড়াটে লোক। বাবাকে বেধড়ক পি'টিয়ে ছিনিয়ে নেয়া হয় সব টাকা। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে নি'র্মমভাবে জ'খম করে বাবাকে। ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদীতে এই ঘটনা ঘটে।

সেদিন বাবার চি'ৎকার শুনে ছুটে এসে ভাইদের হাতে মা'র খেয়েছিলেন ছোট বোন ও তার স্বামীও। ওই ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থা'নায় একটি মা'মলা করা হয়। মা'মলা'টি ত'দন্তের দায়িত্ব পায় ডিবির গুলশান বিভাগ।

বাবার করা ছিনতাইয়ের মা'মলায় ঢাকা মহানগর পু'লিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) শুক্রবার রাতে রাজধানীর মিরপুর এবং গাজীপুর থেকে জয়নাল মিয়ার মেজো ও ছোট ছে'লে আবদুল হান্নান ও আবদুল মান্নান এবং বড় ছে'লের মামা শ্বশুরকে গ্রে'ফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ২৯ লাখ টাকা উ'দ্ধার করা হয়। কিন্তু এখনো পলাতক প্রধান আ'সামি বড় ছে'লে হানিফ।

যদিও গ্রে'ফতারের পর নিজেদের দোষ স্বীকার করে সন্তানরা এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, সন্তান হিসেবে এটা জঘন্য কাজ, কোনো সন্তান যেন বাবার সঙ্গে এমন কাজ না করে। এ সময় ক্ষমা চেয়ে কেয়ামতের ময়দানে তারা মা-বাবার শাফায়াতও প্রার্থনা করেন।

গোয়েন্দা পু'লিশ জানায়, বাবার কাছ থেকে ছিনতাই করা ৩১ লাখ টাকা তিন ভাই ভাগ করে নেন। গ্রে'ফতারের পর মেজো ছে'লে হান্নানকে নিয়ে তার বাসায় অ'ভিযান চালিয়ে উ'দ্ধার করা হয় ৫ লাখ টাকা। এর আগে বড় ছে'লের মামা শ্বশুরের বাসায় অ'ভিযান চালিয়ে উ'দ্ধার করা হয় ২২ লাখ টাকা। গ্রে'ফতার করা হয়েছে সেই মামা শ্বশুরকেও।

মা'মলার ত'দন্ত তদারক কর্মক'র্তা ডিবি গুলশান বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান জানান, ছে'লেগুলো বখাটে। তার পাশাপাশি তাদের স্ত্রী' ও স্ত্রী'র আত্মীয়স্বজনরাও লো'ভী। তাই বাবা-মাকে ভালোবাসা বা ভরণপোষণের পরিবর্তে তারা স্বামীদের উসকে দিত তাদের নি'র্যাতন করার জন্য।

তিনি বলেন, ‘জয়নাল আবেদীনের ছে'লেরা কখনোই তাদের বাবা-মায়ের দেখাশোনা করতেন না। ফলে বৃদ্ধ বয়সে তাদের এক মে'য়ের সঙ্গে থাকতেন। তারা চাচ্ছিলেন তার বাবা মা'রা যাক। তাহলেই তার সম্পদ তারা ভোগ করতে পারবেন।’

দেশের আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতা বৃদ্ধ হলে তার ভরণপোষণসহ তাদের নিয়মিত সময় দিতে বাধ্য থাকবেন সন্তানরা। কেউ এ রকম অন্যায়ের শিকার হলে দ্রুত অ'ভিযোগ দেয়ার পরাম'র্শ পু'লিশের।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!