বাঁশ খাওয়ার চাহিদা বেড়েছে

বান্দরবানে বিভিন্ন বাজারে বাঁশকোড়লের চাহিদা বেড়ে চলেছে। বাঁশ গাছের গোড়ার কচি অংশকে সবজি হিসাবে ব্যবহার করে পাহাড়িরা। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলে বাঁশকোড়ল। জানা যায়, বিশেষ করে বাঁশকোড়ল বর্ষাকালে বেশি পরিমাণে উৎপাদিত হওয়ায় এটিকে বর্ষাকালীন সবজি হিসেবেই ধরে নেওয়া হয়। বর্ষাকালে এ সবজি বাজারে বেশি পরিমাণে দেখা যায়। এটি বর্ষার শুরুতে বৃষ্টির পানিতে মাটি নরম হলে বাড়তে শুরু করে। মাটি থে‌কে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি গজিয়ে উঠলে খাওয়ার উপযোগী হয়।

তবে বাজা‌রে এসব সবজি কে‌জি‌তে বিক্রি করা হয় না। আলাদা ৮ থেকে ১০টি বাঁশকোড়লের আটি বেঁধে ভাগ বসিয়ে বিক্রি করা হয়। প্রতি আঁটির দাম ধ'রা হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে। তবে অনেক সময় ৪০ থেকে ৬০ টাকা দরেও বিক্রি হয়। স্থানীয় পাহাড়ি ব্যবসায়ীরা বলেন, বান্দরবানে ঘুরতে আসা অনেক পর্যট'কের কাছে এখনো আকর্ষণীয় এই পাহাড়ি সবজি বাঁশকোড়ল। এটি প্রথমে সেদ্ধ করে ভাজি, ভুনা এবং ডাল ও মুরগির মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে নানাভাবে সুস্বাদু করে তরকারি রান্না করে খাওয়া যায়।

সবজি বিক্রেতা মেনু চিং মা'রমা বলেন, আমি খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাঁশকোড়ল আহ'রণ করি। পরে বিকেলে বালাঘাটা বাজারে বিক্রি করতে আসি। কখনো বিক্রি হয়, কখনো হয় না। পাহাড় থেকে কুড়ানো সবজিগুলো বিক্রি করে আমাদের পরিবার চলেছে বলে তিনি জানান।

বান্দরবান মা'রমা বাজারের বাঁশকোড়ল বিক্রেতা সিংদাই‌মে মা'রমা বলেন, বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ থাকলেও সব বাঁশ থেকে কোড়াল সংগ্রহ করা যায় না। সব বাঁশকোড়ল খাওয়াও যায় না। যেগুলো খাওয়া যায়, তার মধ্যে মুলি বাঁশ, ফারুয়া বাঁশ, বাজ্জে বাঁশ, ডলু বাঁশ, মিতিংগ্যা বাঁশ এবং কালিছু'রি বাঁশকোড়ল চিংড়ি মাছের নাপ্পি দিয়ে রান্না করে খেতে বেশ সুস্বাদু হয়।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!