ইভা হ'ত্যায় স্প'র্শকাতর তথ্য

একাধিক প্রে'মের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রে'মিকরা দশম শ্রেণির ছা'ত্রী সানজিদা খানম ইভাকে হ'ত্যা করেছে। বিষয়টি ডিজিটাল ডিভাইস চেক, আ'দালতে দেওয়া একজনের জবানব'ন্দি এবং জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, খুবই স্প'র্শকাতর তথ্য পাওয়া গেছে, যা পরিবার এবং সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না। এসব তথ্য জানান রংপুর জে'লা পু'লিশের সহকারী পু'লিশ সুপার (সি-সার্কেল) আশরাফুল আলম পলা'শ।

তিনি বলেন, টেপামধুপুর-নব্দীগঞ্জ সড়কের হরিচরন লস্কর এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গায় দুটি মোটরসাইকেল দাঁড় করায়। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলার পর তিন প্রে'মিক বলে এখন যদি তোকে রেপ করি তাহলে কি হবে। তখন সানজিদা তাদের বলে, তোদের আমি বিশ্বা'স করি। এরপর তারা সানজিদাকে তাদেরসহ অন্যান্যদের সঙ্গে চেটিং করা, প্রে'ম করা এবং শারীরিক রিলেশন করার বিষয়ে জানতে চায়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কা'টাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রথমে সায়েম চাকু বের করে স্টেপ করার চেষ্টা চালায়। তখন হাত দিয়ে বাধা দিতে গেলে উভ'য়ের হাতের আঙ্গুল কে'টে যায়। এক পর্যায়ে সায়েম সানজিদার গলায় স্টেপ করে। আবার স্টেপ করতে গেলে চাকু ভেঙে যায়। পরে অন্য দুইজন সানজিদাকে পেছন দিক থেকে পিঠে আ'ঘাতের পর আ'ঘাত করতে থাকে।

র'ক্ত ফিনকি দিয়ে পুরো শরীরে পড়তে থাকে এবং সানজিদা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা দ্রুত পালিযে যায়। পুরো ঘটনাটি তারা ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যেই সেরে ফেলে। সেখান থেকে পালিয়ে আসার পর তিনজনই সায়েমের মোবাইলে লগইন করা সানজিদার আইডি থেকে তাদের পক্ষ থেকে চ্যাটিং করা সব মেসেজ মুছে ফেলে দেয়।

গত মঙ্গলবার ( ১৬ আগস্ট) বেলা আড়াইটায় কোচিং করতে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রে'মিকের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার পর কুটিরপাড়ায় রাস্তায় রাত সাড়ে নয়টায় পড়েছিল স্কুল শিক্ষার্থী সানজিদা খানম ইভা'র র'ক্তাক্ত শরীর।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় পু'লিশ তাকে উ'দ্ধার করে হাসপাতা'লে নিলে চিকিৎসকরা মৃ'ত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সানজিদার প্রে'মিক নাহিদুল ইস'লাম সায়েমকে গ্রে'ফতার করা হয় ঐ রাতেই। বুধবার রাতে সায়েম আ'দালতে বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানব'ন্দি দেয়। এছাড়া পু'লিশের জিজ্ঞাসাবাদে সায়েম অনেক তথ্য জানিয়েছে।

আশরাফুল বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ইভা বাড়ি থেকে কোচিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হলেও কোচিং সেন্টারের দিকে না গিয়ে নব্দীগঞ্জের দিকে যায়। কিছুদূর গিয়ে তার প্রে'মিক পাশের গ্রামের তালুক পশুয়ার নুর হোসেনের ছে'লে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিদুল ইস'লাম সায়েমের মোটরসাইকেল যোগে রংপুর নগরীর শাপলা সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখে। সায়েমের সঙ্গে তার তিন বছরের স'ম্পর্ক থাকলেও মাস তিনেক আগে ব্রেকআপ হয়। কিন্তু তাদের মধ্যে কথাবার্তা এবং দেখাশুনাসহ সব কিছুই চলতো।

সিনেমা দেখার ফাঁকে সায়েমের সঙ্গে সানজিদার অন্য প্রে'মিকদের বিষয় নিয়ে কথা কা'টাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সানজিদা সায়েমের মোবাইল ফোনে তার ফেসবুক আইডি লগ ইন করে। এ সময় সায়েম দেখতে পায় একাধিক ছে'লের সঙ্গে সানজিদার আ'পত্তিকর চেটিং। তখন সায়েম সানজিদাকে আরেকজন মে'য়ের ছবি ও চেটিং দেখিয়ে বলে মে'য়েটি সায়েমকে পছন্দ করে। এর সঙ্গে এখন প্রে'ম চলছে। এসব বিষয় নিয়ে সিনেমা হলেই তাদের মধ্যে কথা কা'টাকাটি হয়। হল থেকে বাইরে বের হয়ে সানজিদা একাই মাহিগঞ্জে চলে যায় ।

তিনি বলেন, হলের সামন থেকে রাগ করে সানজিদা চলে যাওয়ার পর সায়েম সানজিদার আরেক প্রে'মিককে মোবাইল করে ঘটনা খুলে বলে। তখন ঐ প্রে'মিক আরেক প্রে'মিকসহ মাহিগঞ্জ আসে এবং তাজহাট কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন একটি গলির মা'থায় সানজিদাকে নিয়ে যায়। এরপর পর সেখানে যায় সায়েম। চারজন মিলে সেখানে সিনেমা হলের ঘটনাটি মীমাংসা করে। পরে সেখানে চারজনেই পীরগাছার আলীবাবা থিম পার্কে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সানজিদা অন্য এক প্রে'মিকের মোটরসাইকেলে উঠে। আর এক প্রে'মিক ওঠে সায়েমের মোটরসাইকেলে।

ঐ পু'লিশ কর্মক'র্তা আরো বলেন, আলী বাবা থিম পার্কের সামনে পৌছানোর পর রাত হওয়ায় সেখানে ভেতরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় সানজিদা। বলে বাড়িতে যেতে হবে তাড়াতাড়ি। তখন তারা চারজনেই ওই দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে বাড়ির পথে রওনা দেয়। এরমাঝে একটি ফাঁকা জায়গায় কথা বলার জন্য দাঁড়ালে সেখানে অনেক পথচারী থাকায় আবারো বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয়।

পু'লিশের এই কর্মক'র্তা আরো বলেন, সায়েমকে গ্রে'ফতারের পর আম'রা তাদের ডিজিটাল ডিভাইসের পাসওয়ার্ড উ'দ্ধার করে তাতে খুবই স্প'র্শকাতর চ্যাটিং মেসেজ দেখতে পাই। শুধু যে সানজিদারই একাধিক ছে'লের সঙ্গে স'ম্পর্ক ছিল, তা নয়। ঐ তিন ছে'লেরই আবার একাধিক মে'য়ের সঙ্গে স'ম্পর্ক ছিল। তাদের মেসেজে অ'ত্যন্ত খোলামেলা চ্যাটিং ছিল, যা দেখে আম'রা কিংকর্তব্যবিমূঢ হয়েছি। কি করে এ ধরনের খোলামেলা আ'পত্তিকর কথাবার্তা টিন এজরা লিখতে পারে। শুধু তাই নয়, সানজিদা, সায়েম ও অন্য দুইজনের যে একাধিক ছে'লে মে'য়ের সঙ্গে স'ম্পর্ক সেটা তারা নিজেরা খোলামেলাভাবে বলাবলিই করতো মেসেজে ও কথাবার্তায়।

আশরাফুল আরো বলেন, এ ঘটনায় জ'ড়িত অ'পর কথিত আরেক প্রে'মিককে আম'রা গ্রে'ফতার করেছি। তাকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অ'ভিযান পরিচালনা করছি জ'ড়িত অন্যজনকে গ্রে'ফতার করতে। পু'লিশ ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই নিরলসভাবে কাজ করে এ ঘটনার জ'ড়িতদের সা'সপেক্ট করতে পেরেছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে অবশ্যই সন্তান-সন্ততিদের পারিবারিক এবং সামাজিতভাবে সচেতন হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, ঘটনার আগে সানজিদাকে ধ'র্ষণ করা হয়েছিল কিনা তা নিশ্চিত হতে ভিকটিমের ভ্যাজাইনাল সওয়াব সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে সানজিদার বাবা ইবরাহিম খান বলেন, আমা'র মে'য়ে কেমন ছিল তা এলাকাবাসী জানেন। আমা'র মে'য়ে যদি খা'রাপ হয়, তাহলে আমি বিচার চাই না। যদি ভালো হয় তাহলে যেভাবে তাকে একটার পর একটা স্টেপ করে মা'রা হয়েছে। আমি হ'ত্যাকারীদের ফাঁ'সি চাই।

বড়দরগা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইস'লাম খোকন বলেন, সানজিদা ভদ্র এবং মেধাবী ছা'ত্রী ছিল। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় আম'রা যে কয়েকজন ছাত্রছা'ত্রীকে এ প্লাস পাওয়ার মতো ভেবে আলাদা টেক কেয়ার করতাম তার মধ্যে সে প্রথম ছিল। সেও এ প্লাস পাওযার লক্ষেই পড়ালেখা করতো। এভাবে তাকে হ'ত্যার বিষয়টি আম'রা মানতে পারছি না। হ'ত্যাকারীদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!