ছে'লের সঙ্গে ফোনে ৪০ সেকেন্ডের কথোপকথনে যা বলছিলেন সেই শিক্ষিকা

নাটোরের গুরুদাসপুর এম হক কলেজের সহকারী অধ্যাপক খায়রুন নাহার ঘটনার দিন রাতে শেষবারের মতো ছে'লে সালমান নাফিস বৃন্তের সঙ্গে কথা বলেছিলেন।
ছে'লের সঙ্গে ৪০ সেকেন্ডের কথোপকথনে ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার বিষয়টি জানান। এরপর ছে'লে তার সৎবাবা মামুন হোসাইনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এতে শেষ পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।

বৃন্ত জানান, গত শনিবার ঘটনার দিন রাত ১১টার কিছু সময় আগে মাকে ফোন দেন। এ সময় মা জানান, তিনি দুই এমজি পাওয়ারের আটটি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়েছেন। এর বাইরে মা আর কথা বলতে পারেননি। এরপর সংযোগ কে'টে মামুনকে ফোন দেন বৃন্ত। এ সময় মামুন তাকে বলেন, দুই-চারটা কথা হলেই খাইরুন ঘুমের ট্যাবলেট খায়। বৃন্তকে মায়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন মামুন। পরদিন সকালে মামুন তাকে ফোন দিয়ে আত্মহ'ত্যার বিষয়টি জানান।

বৃন্তের দাবি, মামুন যে কথাগুলো বলেছেন তা মিথ্যা। মূলত তার মায়ের কাছ থেকে মোটরসাইকেল কেনাসহ সব কিছুর জন্য টাকা নিতেন মামুন। এছাড়া সবসময় তার মাকে মানসিক চাপে রাখতেন। তার মা তাকে একটি মোটরসাইকেল কিনে দিতে চাইলে মামুন নিষেধ করেন। ওই বিষয় নিয়ে ওই রাতে তার মায়ের সঙ্গে মামুনের ঝামেলা হয়েছিল। মামুন হয় তার মাকে হ'ত্যা করেছেন অথবা আত্মহ'ত্যায় উৎসাহ দিয়েছেন। বিষয়টি সুষ্ঠু ত'দন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান তিনি।

বৃন্ত জানান, তিনি রাজশাহী সিটি কলেজে এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। তার ছোটভাই অর্ক তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

নাটোর সদর হাসপাতা'লের সহকারী পরিচালক পরিতোষ কুমা'র বলেন, খাইরুনের ময়নাত'দন্তে সদর হাসপাতা'লের আরএমও সামিউল ইস'লাম শান্তর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বোর্ড গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে তার গলায় দাগ ছাড়া শরীরে আ'ঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃ'ত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

মা'মলার ত'দন্তকারী কর্মক'র্তা এসআই এ জে মিন্টু বলেন, নি'হতের চাচাতো ভাই সাবের উদ্দীন বাদী হয়ে একটি অ'পমৃ'ত্যুর মা'মলা করেছেন। কিন্তু ওই শিক্ষিকার মৃ'ত্যুর সঙ্গে মামুন জ'ড়িত এমন দাবি করেছেন নি'হতের স্বজনরা। ওই ভাড়া বাড়িতে নি'হতের সঙ্গে মামুন থাকতেন। এতে খাইরুনের মৃ'ত্যুর সঙ্গে মামুনের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে এমন ধারণা থেকে তাকে ওই মা'মলায় গ্রে'ফতার দেখিয়ে আ'দালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আ'সামিপক্ষের আইনজীবী গো'লাম সারোয়ার স্বপন জানান, খাইরুনের সঙ্গে মামুনের স্বাভাবিক স'ম্পর্ক ছিল এমন দাবি করেছেন মামুন। কিন্তু কী' কারণে কী'ভাবে খাইরুন মা'রা গেলেন তা মামুন জানেন না। তিনি আ'দালতে বিষয়গুলো তুলে ধরে জামিন চাইলেও বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

নাটোরের পু'লিশ সুপার লিটন কুমা'র সাহা বলেন, সিআইডির ক্রা'ইম ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ছায়া ত'দন্ত করেছে পু'লিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এছাড়া জে'লা পু'লিশ ও রেব মাঠে কাজ করেছে। ময়নাত'দন্তসহ সংশ্লিষ্ট ত'দন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি আত্মহ'ত্যা নাকি হ'ত্যা তা ত'দন্তের পর জানা যাবে।

প্রেসঙ্গত, গত রোববার সকাল ৭টার দিকে নাটোর শহরের বলারিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে শিক্ষিকা খাইরুন নাহারের ম'রদেহ উ'দ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার স্বামী কলেজছাত্র মামুন হোসাইনকে আ'ট'ক করে পু'লিশ। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!