হোটেল থেকে নিয়মিত চাঁদা নেন রাবির দুই ছাত্রলীগ নেতা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক হোটেল মালিকের থেকে নিয়মিত চাঁদা নেওয়ার অ'ভিযোগ উঠেছে হল শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতার বি'রুদ্ধে।

রোববার (২১ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে এ তথ্য পাওয়া যায়।

অ'ভিযু'ক্তরা হলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইস'লাম রাকিব। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংলগ্ন খাবারের হোটেল মালিক মানিক হোসেন বাবু।

হোটেল মালিকের অ'ভিযোগ, হল কমিটি হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় হু'মকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করছেন অ'ভিযু'ক্ত ছাত্রলীগ নেতারা। দিনপ্রতি দুই হাজার করে দাবি করলেও প্রতিদিন এক হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী বাবু বলেন, ওনারা (রাশেদ এবং রাকিব) জিয়া হলের সভাপতি, সেক্রেটারি হওয়ার পরেই আমা'র সঙ্গে কন্ট্রাক্ট করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে দোকান চালাতে দেবে না বলে হু'মকি দেয়। প্রথমে তারা প্রতিদিন দুই হাজার টাকা দাবি করে। এরপর আমি নিয়মিত তাদের এক হাজার করে দিতে রাজি হই। কিছুদিন ব্যবসা খা'রাপ থাকায় সপ্তাহে দুই হাজার করে নিলেও এখন প্রতিদিন এক হাজার করে নিচ্ছে। সর্বশেষ শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে রাশেদ এসে এক হাজার টাকা নিয়ে গেছে। এই সপ্তাহে ছুটি থাকায় তিন-চার দিনের টাকা দিতে পারিনি। সেটা তারা ধরে রেখেছে। পরে নিয়ে নেবে। মানে রেগুলার এক হাজার করে দেওয়াই লাগছে।

তিনি আরও বলেন, তারা ফোন করে টাকা রেডি রাখতে বলে। কখনও রাশেদ, কখনও রাকিব এসে টাকা নিয়ে যায়। পরে তারা দুজন টাকা'টা ভাগ করে নেয়। এ ছাড়া হল কমিটি হওয়ার পর থেকে রাকিব প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ টাকার খাবার খায়। কখনও তিনি বিল পরিশোধ করেনি। আমি পুরো হিসাব লিখে রেখেছি। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার টাকার মতো বাকি রয়েছে তার।

ওই দোকানে কর্ম'রত মেহেদী হাসান আকাশ বলেন, প্রায়ই রাশেদ ভাইয়ের ছে'লেরা এসে হু'মকি-ধমকি দেয়। এখন যে খাবারের রেট, ৪ থেকে ৫ জন খেয়ে ৩০০ থেকে ৪০০ বিল আসলে ১০০ টাকা দিয়ে চলে যায়। আর রাশেদ ভাইয়ের যত টাকাই বিল হোক না কেন ফিক্সড ৩০ টাকা দিয়ে চলে যায়। রাকিব ভাইয়ের প্রতিদিন তিন বেলায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বিল হয়। টাকা দেয় না এজন্য বাবু মামা লিখে রাখতে বলে। খাতায় হিসাব লিখে রাখার বিষয়টি রাকিবকে জানালে ‘লিখে লাভ নেই’ বলে জানিয়েছেন। এতেই বোঝা যায় সে টাকা দেবে না।

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রাশেদ মিয়া বলেন, এসব মিথ্যা। আমি তো সবার সামনেই টাকা দিয়ে খাই। ৫০ টাকার খাবার খেলে হয়তো ৪০ টাকা দেই। এখানে চাঁদা নেওয়ার তো কোনো প্রশ্নই আসে না। আমাকে ফাঁ'সানোর জন্য এটা করা হচ্ছে।

একই হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইস'লাম রাকিব বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আমি অবগত নই। আমা'র মনে হয় রাশেদ ভাইও এই বিষয়ে কিছু জানেন না।

খাবারের বিল না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি কোনো মাসে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখতাম, আবার কোনো মাসের শেষে টাকা দিতাম। সর্বশেষ দুই মাসের টাকা হয়তো বাকি আছে। সেটাও দিয়ে দেব।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গো'লাম কিবরিয়া বলেন, ছাত্রলীগের সম্প্রতি বিভিন্ন বিষয় আমাদের নজরে এসেছে। এ নিয়ে আম'রা গতকালও মিটিং করেছি। এসব অ'পকর্মের বি'রুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। ছাত্রলীগের কোনো কর্মী অন্যায় করলে ছাড় দেওয়া হবে না।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, আমি বিষয়টি মাত্র জানলাম। ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে টাকা চাঁদাবাজি করার ইখতিয়ার কারও নেই। আমি বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সত্যতা মিললে তার বি'রুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মুক্তিযু'দ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস বলেন, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো দেখছি এবং সার্বিক খোঁজখবরও রাখছি। আমি এ ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনাগুলো কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করব।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!