‘অক্সিজেন স্বল্পতায়’ মা'রা গেছেন সিলেটের সেই ৩ প্রবাসী

সিলেটের ওসমানীনগরে ৩ প্রবাসীর লা'শে রাসায়নিক বা বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি, এটি একটি দুর্ঘ'টনা। মুলত অক্সিজেন স্বল্পতায় তাদের মৃ'ত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের পু'লিশ সুপার মোহাম্ম'দ ফরিদ উদ্দিন।
তিনি বলেন, ২৫ জুলাই রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় দীর্ঘক্ষণ (প্রায় ২ ঘণ্টা) জেনারেটর চলছিল। রুমের ভেতর কোনো ভেন্টিলেটর ছিল না। যে কারণে জেনারেটরের ধোঁয়া রুমের ভেতরে আস্তে আস্তে প্রবেশ করে। আর জেনারেটরের ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেন স্বল্পতায় প্রবাসী পরিবারের পাঁচ সদস্য অ'সুস্থ হয়ে পড়ে। পরদিন ২৬ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ওসমানীনগরের তাজপুর এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষের দরজা ভেঙে রফিকুল ইস'লাম, তার স্ত্রী' হোসনারা বেগম, ছে'লে সাদিকুর রহমান, মে'য়ে সামিরা ইস'লাম ও ছোট ছে'লে মাইকুল ইস'লামকে অচেতন অবস্থায় উ'দ্ধার করে পু'লিশ। হাসপাতা'লে নেওয়ার পর রফিকুল ইস'লাম ও মাইকুল ইস'লামকে মৃ'ত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এরপর ৫ আগস্ট রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা'রা যান মে'য়ে সামিরা ইস'লাম।

পু'লিশ সুপার আরো বলেন, নি'হতদের ময়নাত'দন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন, ঘটনাস্থল থেকে উ'দ্ধার হওয়া ২০টি আলামতের রাসায়নিক বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর চিকিৎসক দল পর্যালোচনা করেছেন। পরে তারা একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিবেদন দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার পু'লিশের কাছে দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটি।

প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে পু'লিশ সুপার বলেন, প্রথমত লোকজনের আশ'ঙ্কা ছিল, ওই ঘটনা বিষক্রিয়ায় হতে পারে। তবে প্রতিবেদনে বিষক্রিয়ার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয়ত, ময়নাত'দন্তের প্রতিবেদনে নি'হত তিনজনের শরীরে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো আ'ঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, আম'রা প্রথম থেকে বলে আসছিলাম, যেহেতু সেটি আবদ্ধ ঘর ছিল এবং এক ঘরে পাঁচজন মানুষ বসবাস করেছেন। রাতে বিদ্যুৎ ছিল না, তারা ঘরের ভেতরে জেনারেটর চালিয়েছিলেন। যেহেতু ঘরের দরজা-জানালা সব কটি বন্ধ ছিল। সেহেতু জেনারেটরের ধোঁয়ার কারণে এমনটি ঘটতে পারে। প্রথম থেকে ঘটনাস্থল পর্যালোচনা করে যেটি বলে আসছিলাম ‘সাফোকেশন’। সে সাফোকেশনে তারা দমবন্ধ হয়ে মা'রা গেছেন বলে আম'রা নিশ্চিত।

এর আগে ২৩ আগস্ট পু'লিশ সুপার নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক ত'দন্তে একই পরিবারের তিন প্রবাসীর মৃ'ত্যু এবং দুই সদস্য অ'সুস্থ হওয়ার ঘটনা জেনারেটরের ধোঁয়া থেকে হয়েছে। তবে ওই সময় চিকিৎসকদের প্রতিবেদন না আসায় সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, রফিকুল ইস'লাম ওসমানীনগর উপজে'লার বড় দিরারাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তবে তিনি বেশ আগেই যু'ক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পান। ১২ জুলাই রফিকুল স্ত্রী' ও তিন সন্তানকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন। পরে ১৮ জুলাই তিনি ওসমানীনগরে চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ঘটনার পর চিকিৎসা শেষে ৩ আগস্ট বাড়িতে ফিরেছেন রফিকুল ইস'লামের স্ত্রী' হোসনারা বেগম ও ছে'লে সাদিকুল ইস'লাম।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!