‘ঋণ কই'রা বিদেশ পাঠাইছিলাম, অহন পোলার লা'শের অ'পেক্ষায় আছি’

সৌদি আরবে সড়ক দু;র্ঘ;ট;নায় নি;হ;ত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজে'লার সাদ্দাম হোসেনের খালু মোস্তফা মিয়া’….

‘কাগজপত্র ঠিক করতে প্রায় দুই মাসে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দিয়েছি। ঋণের মাত্র এক কিস্তি দিয়েছি।

পোলাডারে আল্লাহ নিয়া গেল। এখন বাকি কিস্তি কেমনে যে দিমু মা'থায় কাজ করে না।

গরিব মানুষ আম'রা। দিন আনি দিন খাই।

সবাই মিইল্লা ধার-দেনা কই'রা পোলাডারে বিদেশ পাঠাইছিলাম। আর অহন পোলার লা'শের লাইগা অ'পেক্ষা করতাছি।’এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘ'টনায় ;নি;হ;ত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজে'লার সাদ্দাম হোসেনের খালু মোস্তফা মিয়া।

বৃহস্পতিবার দেশটির আল কাসিম শহরে প্রাইভেট'কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে কুমিল্লার তিন যুবক মা;রা যান। তার মধ্যে মনোহরগঞ্জ উপজে'লার নরহরিপুর গ্রামের আবুল বাশারের ছে'লে সাদ্দাম একজন।

স্বজনরা জানান, সাদ্দাম যখন শি'শু, তখন তার বাবা মা;রা গেছেন। এরপর তাকে ও তার ছোট ভাই হৃদয়কে কোলেপিঠে করে মানুষ করেছেন খালু মোস্তফা মিয়া। নিজের সন্তানের মতো করে তাদের লালন-পালন করেছেন।

সাদ্দামের কথা বলতে বলতে কেঁদে উঠছিলেন মোস্তফা মিয়া। পাশে বসে কাঁদছিলেন সাদ্দামের মা খোদেজা বেগম ও বোন শিরিন আক্তার।

মোস্তফা মিয়া বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে সাদ্দাম বিদেশ গেছে। তারপর থেকে ধার-দেনা পরিশোধ করেছে। এরপর তার ভাই হৃদয়কে নিয়ে গেছে। এর মধ্যে হৃদয়ের কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।

তাই কাগজপত্র ঠিক করতে গত মাসের আগের মাসে পাঁচ লাখ টাকা বাড়ি থেকে নিয়েছে।

এই টাকা আম'রা একটি এনজিও থেকে ঋণ করে নিয়ে দিয়েছি। ঋণের মাত্র এক কিস্তি দিয়েছি। এখন এতগুলো টাকা কী'ভাবে দেবো জানি না।

সাদ্দামের ম;র;দে;হ দেশে আনার বিষয়ে তার ছোট ভাই হৃদয় এবং একই দুর্ঘ'টনায় নি'হত ফারুক ও পারভেজের বাবা আবুল কাশেম সহযোগিতা করছেন বলে জানিয়েছেন মোস্তফা মিয়া।

কুমিল্লা জে'লা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ বলেন, ‘তাদের পরিবার সরকারিভাবে তিন লাখ টাকা পাবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হতে তিন মাস লাগবে।

যে এনজিও থেকে তারা ঋণ নিয়েছে আম'রা সেই এনজিওর সঙ্গে কথা বলে একটা সমন্বয় করে সহযোগিতা করতে পারবো। এছাড়া তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অবশ্যই পাশে থাকবো।’

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!