পড়াশোনা ছেড়ে নাইট ক্লাব, বাইক; চাহিদা মেটাতেই বাবাকে খু'ন

ব্যবসায়ীকে কু‌‌'পিয়ে খু'নের অ'ভিযোগে গ্রে'ফতার হয়েছে পালিত ছে'লে। গত শুক্রবার রাতে হাওড়ার কাজিপাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। নি'হত ব্যবসায়ীর নাম তৈয়ব আলি (৫৩)। শুক্রবার রাতে দোকান থেকে বাড়ি ফেরার সময় আবাসনের সিঁড়িতে তাঁকে কু‌‌'পিয়ে খু'ন করে পালিত ছে'লে আকাশ আফ্রিদি ও তাঁর বন্ধুরা। অ'ভিযু'ক্তকে শুক্রবার রাতেই গ্রে'ফতার করে শি'বপুর থা'নার পু'লিশ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলকাতার চাঁদনি চক বাজারের ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসায়ী ছিলেন তৈয়ব সাহেব। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও দোকান বন্ধ করে হাওড়ার কাজিপাড়ার ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন তিনি। আবাসনের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় ধারাল অ'স্ত্র দিয়ে তাঁকে কু‌‌'পিয়ে র'ক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ীকে ফেলে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পরিবারের লোকেরা ব্যবসায়ীর আর্তনাদ শুনে ছুটে এসে দেখেন র'ক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন তিনি। এর পর তাঁকে উ'দ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতা'লে নিয়ে গেলে মৃ'ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

ঘটনার ত'দন্তে নেমে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করেন পু'লিশ কর্মক'র্তারা। দেখা যায় ওই আবাসন থেকে বেরিয়ে পালাচ্ছে মৃ'ত ব্যবসায়ীর পালিত পুত্র ও তাঁর বন্ধুরা। এর পর শুরু হয় তল্লা'শি। রাতেই গ্রে'ফতার করা হয় তৈয়ব আলির পালিত পুত্র আকাশ আফ্রিদিকে। জিজ্ঞাসাবাদে খু'নের দায় স্বীকার করেছে, টাকা ও সম্পত্তির লো'ভে বন্ধুদের নিয়ে পালিত পিতার ওপর হা'মলা চালায় সে। ধৃতকে শনিবার হাওড়া আ'দালতে হাজির করে হেফাজতে নিয়েছে পু'লিশ। বাকি খু'নিদের খোঁজে তল্লা'শি চলছে। উ'দ্ধার করা হয়েছে খু'নে ব্যবহৃত অ'স্ত্রটি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্ধুদের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই বিদেশে ঘুরতে চলে যেতেন আকাশ। প্রায়ই দামি দামি বাইক কিনতেন এবং কিছু দিন যেতে না-যেতেই তা বদলে ফেলতেন। ঘন ঘন মোবাইল ফোন বদলে ফেলতেন তিনি। সম্প্রতি আকাশের জীবনযাত্রা আরও উচ্ছৃঙ্খল হয়ে গিয়েছিল বলেই দাবি করেছেন পড়শিরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, চাহিদা মতো টাকা না পেলে পরিবারের লোকজনদের উপর চাপ সৃষ্টি করে চ'মকে-ধমকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতেন আকাশ। এক বার ঘরের সিন্দুক ভেঙে প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা এবং সোনায় গয়না চু'রি করার অ'ভিযোগও উঠেছে আকাশের বি'রুদ্ধে। সম্পত্তির কারণেই ব্যবসায়ীকে খু'ন করা হয়েছে, প্রাথমিক ত'দন্তের পর তা মোটামুটি পরিষ্কার ত'দন্তকারীদের কাছে।

কিন্তু এত টাকা দিয়ে কী' করতেন আকাশ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ত'দন্তকারীরা জেনেছেন, পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পর অ'ত্যন্ত উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন তিনি। ত'দন্তকারীদের অনুমান, পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় ঢুকে পড়ায় কম বয়স থেকেই আকাশের হাতে টাকা আসতে শুরু করে। যার জেরে ছোট থেকেই বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। যত দিন গিয়েছে, ততই তাঁর চাহিদা বেড়েছে। বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে নিয়মিত নাইট ক্লাবে যাতায়াত ছিল তাঁর। তার প্রমাণ আকাশ ফেসবুক থেকেও মিলেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস ও আনন্দবাজার।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!