নায়িকা সিমিকে পঙ্গু করা কে এই ব্যাংক কর্মক'র্তা?

বড় ব্যবসায়ী হতে গিয়ে বেহাল দশা নায়িকা ও প্রযোজক সিমি ইস'লাম কলির। স'ন্ত্রাসী হা'মলা হয়েছিল তার ওপর। উদ্দেশ্য ছিল মে'রে ফেলা। ভাগ্যের জো'রে প্রা'ণে বেঁচেছেন। তবে বরণ করতে হয়েছে পঙ্গুত্ব। কারণ, তার দু’পায়ের রগ কে'টে দিয়েছে হা'মলাকারীরা। সিমির অ'ভিযোগ, এই হা'মলার পেছনে রয়েছেন এক ব্যাংক কর্মক'র্তা। কিন্তু কে সেই ব্যাংক কর্মক'র্তা?

খোঁজ নিয়ে ঢাকা টাইমস জানতে পেরেছে, ওই ব্যাংক কর্মক'র্তার নাম জীবন কৃষ্ণ রায়। তিনি জনতা ব্যাংকের আরামবাগ শাখার এজিএম হিসেবে কর্ম'রত আছেন।

সিমির সঙ্গে কথা বলে ঢাকা টাইমস জেনেছে, এই জীবন কৃষ্ণ রায়ের একটা পালিত মে'য়ে ছিল। যিনি প্রে'মের স'ম্পর্কে জড়িয়ে একটা ছে'লের সঙ্গে ঘর ছাড়েন। এরপর ২০১৪ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে সিমিকে দেখে তার সেই পালিত মে'য়ের মতো দেখতে বলে জানান জীবন কৃষ্ণ রায়। বলেন, ‘তুমি আমা'র মে'য়ের মতো দেখতে।’

যেভাবে প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয় সিমিকে

জনতা ব্যাংকের আরামবাগ শাখায় নায়িকা সিমির একটা একাউন্ট ছিল। তিনি একদিন সেখানে টাকা জমা রাখতে গেলে তাকে ব্যবসার প্রস্তাব দেন পূর্বপরিচিত ব্যাংক কর্মক'র্তা জীবন কৃষ্ণ রায়। যেহেতু মে'য়ের মতো দেখেন, তাই সরল বিশ্বা'সে জীবন কৃষ্ণের মাধ্যমে তারই পরিচিত ফরিদ নামে একজনকে ধাপে ধাপে ৮০ লাখ টাকা দেন সিমি।

যদিও নায়িকা সঠিকভাবে জানতেনই না কী' ব্যবসার জন্য তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সিমির অ'ভিযোগ, ২০২০ সালে আর্থিক সংকটে থাকায় জীবন কৃষ্ণ রায়ের কাছে তিনি লগ্নিকৃত টাকা ফেরত চান। এর পরই সিমির সঙ্গে খা'রাপ ব্যবহার শুরু করেন ওই ব্যাংক কর্মক'র্তা। নায়িকা বলেন, ‘তিনি (জীবন কৃষ্ণ) আমাকে টাকা না দিয়ে উল্টো তার পা ধরে মাফ চাইতে বলেন। একদিন আমাকে তার অফিসে ডেকে নিয়ে নানাভাবে হু'মকিও দেন।’

নায়িকার বয়ান অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের সময় জীবন কৃষ্ণ রায় তাকে টাকা'টা ফেরত দেওয়ার আশ্বা'স দিয়ে নরসিংদীতে ডেকে নেন। সেখানে সিমির শ্বশুরবাড়ি। বলা হয় শ্বশুরবাড়িতে একটা বিশেষ অনুষ্ঠান আছে। গত ২৮ জুলাই সেখানে যান সিমি। কিন্তু গিয়ে অনুষ্ঠানের কোনো আলামত না দেখে একদিন থেকে গত ২৯ জুলাই রাতে তিনি ঢাকায় ফিরছিলেন।

সিমি জানান, দেবরের মোটরসাইকেলে করে বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন তিনি। রাত তখন ৯টা। নরসিংদীর শি'বপুর ও রায়পুরা থা'নার সংযোগস্থল খইনপুর কুটিরবাজার ব্রিজের কাছে পৌঁছালে নায়িকার দেবর প্রস্রাবের কথা বলে বাইক দাঁড় করেন। ঠিক তার পরই পাশ থেকে আতর্কিত হা'মলা চালানো হয় সিমির ওপর। বেদম মা'রধরের পর হা'মলাকারীরা তার পায়ের রগ কে'টে দেয়।

জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন সিমি। মৃ'ত ভেবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় খইনপুর গ্রামের এক বাসায়। উদ্দেশ্য ছিল সিমিকে কে'টে টুকরো টুকরো করে বস্তায় ভরে কোথাও ফেলে দেওয়া। কিন্তু সেই মূহুর্তে ওই বাসার এক নারী সেখানে চলে আসায় প্রা'ণে বেঁচে যান সিমি। হা'মলাকারীরা সেখান থেকে চ'ম্পট দেয়, সিমিকে নেওয়া হয় হাসপাতা'লে।

গত ২৪ আগস্ট বিকাল পাঁচটায় মগবাজারে এক বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে এ স'ম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে সিমি স্বয়ং।

ঘটনার পর হা'মলাকারী এবং ওই ব্যাংকারের বি'রুদ্ধে মা'মলা করতে আ'হত শরীর নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরা থা'নায় যান নায়িকা। কিন্তু মা'মলা না নিয়ে ঘটনাস্থল ব্রিজের ওপারে শি'বপুর মডেল থা'না এলাকা পড়েছে দোহাই দিয়ে ওই থা'নায় (শি'বপর) মা'মলা করার পরাম'র্শ দেন ভা'রপ্রাপ্ত কর্মক'র্তা (ওসি)। পরে শি'বপুর থা'নায় গেলে সেখানেও মা'মলা নেওয়া হয় না বলে অ'ভিযোগ সিমির।

তবে রায়পুরা থা'নার পরিদর্শক (ত'দন্ত) গোবিন্দ সরকারের দাবি, ওই নারী থা'নায় আসেননি। তাকেই বরং ফোন করে থা'নায় এসে মা'মলা করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু কী' কারণে তিনি সাড়া দেননি তা বোধগম্য নয়। অ'ভিযোগ দিলে তার মা'মলা গ্রহণ করা হবে।’

শি'বপুর থা'নার ভা'রপ্রাপ্ত কর্মক'র্তা (ওসি) সালাউদ্দিন মিয়া বলেন, `ঘটনাটি আমা'র থা'না এলাকায় না। তার পরও লোকমুখে শুনে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঊর্ধ্বতন কর্মক'র্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। থা'না থেকে একজন কর্মক'র্তাকে ভিকটিমের খোঁজে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা'লেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু ওই নারী ঘটনাস্থল রায়পুরা বলে আর আসেননি।’

এদিকে, সিমির ওপর হা'মলা এবং তার থেকে ৮০ লাখ টাকা নেওয়ার ব্যাপারে জানতে ঢাকা টাইমস যোগাযোগ করে সেই ব্যাংক কর্মক'র্তা জীবন কৃষ্ণ রায়ের সঙ্গে। তবে একাধিক বার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সিমির অ'ভিযোগ, শুধু ওই ব্যাংক কর্মক'র্তা নয়, তার ওপর হা'মলার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকেরাও জ'ড়িত।

Back to top button
error: Alert: Content is protected !!